Message Details

image

Message from Principal

আলহামদুলিল্লাহ! ধরাইল আই, এম উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৬২ ইং সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে অদ্যাবধি নিভৃত এ ছায়া সবুজ ঘেরা পল্লীর দরিদ্র , সহজ-সরলপ্রান জনগোষ্ঠির মাধ্যমিক শিক্ষার চাহিদা পূরন করে চলেছে। এ বিদ্যাপিঠটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে এর চারপাশে এর শিক্ষাদান এলাকায় ১০টিরও বেশী মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে । অথচ অত্র প্রতিষ্ঠানটি তার নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে অগ্রসরমান রয়েছে । সূচনা লগ্নে যার আবাস ছিল একটি পুরাতন ব্রিটিশ জমিদারদের পরিত্যক্ত কাছারীবাড়ী,পরবর্তীতে তার বিস্তার লাভ হয় পুরাতন জমিদার বসত বাড়ী হয়ে,একতল,বহুতল ৫টি ভবনে,যার একটি একতলা ফ্যাসিলিটিজ ভবন ছাড়া সবগুলো নিজস্ব অর্থায়নে তৈরী ,যে অর্থায়নে ঝরা ঘামের রক্ত বিন্দুর প্রতি ফোঁটায় জড়িয়ে আছে এলাকাবাসীর মমতা,শ্রম,মেধা আর বৈপ্লবিক নেতৃত্বের এক কিংবদন্তি। মানবিক শাখা নিয়ে জম্ম নেওয়া বিদ্যালয়টিতে ১৯৮১ সালে বিজ্ঞান এবং ২০০২ সালে বানিজ্য শাখা খুলে ত্রি মাত্রিক রুপ ধারন করে। শিক্ষাথীর্ সামাল দিতে ১৯৯৬ সালে একটি এবং ২০০২ সালে ৩টি মোট ৪টি শ্রেণিশাখা খুলতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয় । বিষয় খোলার ক্ষেত্রে উচ্চতর গণিত,কৃষি,কম্পিউটার শিক্ষা বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাভ করা সম্ভব হয়। এ সমস্ত শ্রেণি,শাখা,বিষয় সম্বলিত ৪৩৫ জন ক্রমবর্ধমান শিক্ষার্থীর পাঠদান কর্মসূচীকে এগিয়ে নিতে ১৫ জন শিক্ষকের একটি দক্ষদল ও ১২ জন বিজ্ঞ ব্যবস্থাপনা কমিটি সদস্য নিরলস পরিশ্রম করছে। তাদের এ পরিশ্রমের সামান্য ফলপ্রকাশ – ধরাইল ইকবাল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের আকাশ সংস্কৃতি ওয়েব সাইটে পদার্পন Ñ যা আমাদের সাফল্য ধারার একটি মাইল ফলক। আমি আল্লাহ তালার শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি এবং ওয়েব সাইটের মাধ্যমে সকলকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি। বিস্তারিত আরও আগেই এ জগতে প্রবেশের কথা ছিল, পারি নাই, অদক্ষতা,ব্যর্থতা আমার ,পরে হলেও পেরেছি ,এ সাফল্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ব্যবস্থাপনা কমিটি ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের। সরকারী নির্দেশনার আলোকে শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট মাঠ প্রশাসনের সযতœ তত্বাবধানকে এ প্রসঙ্গে স্বরন না করলে অকৃতজ্ঞই থেকে যেতে হবে। তথ্য প্রযুক্তি প্রাবল্যের যুগে যেখানে উন্নয়নের শিক্ষার, দক্ষতার সজ্ঞাই পরিবর্তন হয়ে গেছে ,সেখানে আকাশ সংস্কৃতির এ ধারায় নিজেদেরকে যুক্ত করে সাহসী ও যুগোপযোগী মানব সম্পদ তৈরীর কাজে আত্বনিয়োগ ছাড়া কি বিকল্প থাকতে পারে ? এ ব্যপারে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। প্রাক্তন কোন শিক্ষার্থী তার ব্যস্ত কর্মজীবনে আকাশ সংস্কৃতির ছোয়ায় প্রিয় বিদ্যালয়টির মুখ এক ঝলক দেখে হারিয়ে যাবে,অতীতের সুখ-স্মৃতিতে স্বরন করবে আমাদেরকে, বিদ্যালয়টির কোন চাহিদা পূরনে হবে সচেষ্ট। এ আশা আমি দূঢ়ভাবে পোষন করি। দ্রূত কার্যকর ও সহজ তথ্য আদান প্রদান তো উদ্দেশ্যের মধ্যেই । বিদ্যালয়টির স্বার্বিক বর্তমান অগ্রসরমান অবস্থানকে সকলের সামনে তুলে ধরাও আরও একটি উদ্দেশ্য । শিক্ষার পাশাপাশি সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে বিদ্যালয়টির সুনাম অতি পুরাতন। ফুটবল ক্রিকেটের সহিত বর্তমানে হকি খেলায় বিদ্যালয়টি জাতীয় ভাবে পরিচিতি লাভ করে চলেছে । এ ক্ষেত্রে শ্রদ্ধাভাজন ব্যবস্থাপনা কমিটির দাতা সদস্য আলহাজ্ব মোঃ মকবুল হোসেনের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টাকে কৃতজ্ঞতাভারে স্বরন করছি। সর্বশেষ হ্যান্ডবলে মেয়েদের দল বিভাগীয় পর্যায়ে অংশগ্রহন করেছে। সংস্কৃতিক অংশেও আমার ক্ষুদে যোদ্ধারা কম যায় না । বিতর্ক প্রতিযোগিতা , বিভিন্ন রচনা প্রতিযোগিতায় তারা প্রায় প্রতি বৎসরই উপজেলা ,জেলা ও বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহনের গৌরব অর্জন করেছে। খেলা ধুলার ব্যক্তিগত ইভেন্টে যেমন – সাঁতার, বর্শা নিক্ষেপ, গোলক নিক্ষেপ , দৌড়, উচ্চলাফ, লম্বালাফ সর্বক্ষেত্রেই এ বিদ্যালয়টি প্রায়ই বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত অংশ গ্রহন করে থাকে। বিদ্যালয়ের স্কাউটিং কার্যক্রমে প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত শিক্ষাথীরা তাদের সেবামুলক কাজে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরিন কর্মকান্ডের সাথে সাথে প্রতিযোগিতা মূলক কর্মকান্ডে প্রায়ই প্রশংসা কুড়িয়ে থাকে। মেন্টরিং প্রশিক্ষন প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর দল বিদ্যালয়ের ক্ষুদে লেখক তৈরীতে এবং শৃংখলা রক্ষায় অনবদ্য নেতৃত্বের ভুমিকায় রয়েছে। বিদ্যালয়ের ক্ষুদে লেখকরা প্রায়ই দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ করে থাকে। ছাপা খানায় ছাপানো সাময়িকীর ক্ষেত্রে “প্রত্যাশা” র নাম উল্লেখযোগ্য।। তবে এ প্রসঙ্গে একটি কথা স্বীকার করে নেওয়া দরকার যে আর্থিক অচ্ছলতা আমাদের এ গতিকে প্রায়ই বাধাগ্রস্থ করে থাকে। বিদ্যালয়ের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফর আমাদের স্থানকাল পাত্র বিবেচনায় সন্তোসজনক তবে স্বস্তিপাওয়ার মত নয়। প্রতি বছরই জে,এসসি/এস,এসসিতে ৫/৬ জন পর্যন্ত জিপিএ -৫ সহ শতভাগ পাশের রেকর্ড রয়েছে। প্রযুক্তির এ সহজ ও দ্রততম হাতিয়ার ব্যবহার করে বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী তাদের সাফল্য যাত্রায় নতুন প্রাণ ও গতি সঞ্চার করবে – এটাই বাস্তবতা। বিদ্যালয়ের নামে ওয়েব সাইট খোলার কাজে সহযোগিতার জন্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্মানিত সদস্য ও শিক্ষক মন্ডলীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিশেষতঃ কম্পিউটার শিক্ষক মোছাঃ ফরিদা ইয়াছমিনের অতিরিক্ত পরিশ্রমের কথা স্মরণ করছি। যাত্রার নতুন মাত্রাযোগ লগ্নে আমি র্কতজ্ঞতা ভরে স্বরন করি ঐ সব ক্ষনজন্মা বিদ্যালয়ের প্রান পুরুষদের যারা সেদিন প্রবল প্রানশক্তি,মেধাশক্তি ,ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে আজকের ব্যস্তবতার স্বপ্ন দর্শন করে গোড়া পত্তন করেছিলেন । যাদেরকে আমরা দেখতে পাব এই ওয়ব পেজের “যাদের আমরা স্মরণ করি পাতায় ” আমি বিদ্যালয়ের অগ্রসরমান ধারাকে সহযোগিতা করার জন্য ‘ ব্র্যাক ’ কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যারা তার পেইস ও অন্যান্য প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বিশেষতঃ একটি আধুনিক পাঠাগার স্থাপন ও পরিচালনায় সক্রিয় ভুমিকা রেখে এবং দক্ষ একদল শিক্ষক তৈরীতে অব্যাহত প্রশিক্ষণ প্রদান করে চলেছে। সর্বশেষ বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজে ব্যাপক সহযোগিতার জন্য রুম টু রিড, বাংলাদেশকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। এ সমস্ত উন্নয়ন সহযোগিদের উত্তরোত্তর সহযোগিতা কামনা করছি। সহযোগিতা কামনা করছি বিদ্যালয়ের প্রাক্তন, বর্তমান ও ভবিষ্যত শিক্ষাথীদের, তাদের অভিভাবক, শিক্ষক মন্ডলী, ব্যবস্থাপনা কমিটি, এলাকাবাসী, শিক্ষা কর্তৃপক্ষ ও সকল শুভানুধ্যায়ীদের। একটি স্বার্থক বিদ্যাপীঠ হিসেবে সফলতার সকল সূচকে অগ্রসরমান ধারা আল্লাহ তা-আলার অসীম রহমতে অব্যাহত থাকুক এবং অত্র বিদ্যালয়ে ওয়েব সাইটে প্রবেশ কল্যানকর হোক Ñপরিশেষে এই প্রার্থনা। আমিন।